নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ০৯ জুলাই ২০২৪ | প্রিন্ট | 226 বার পঠিত
চাঁদা না দেয়ায় ফার্মগেট এলাকায় তাণ্ডব চালিয়েছে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মিথুন ঢালী। গত ০৭ জুলাই রবিবার, সকাল সোয় ৬ টার দিকে ফার্মগেট, ইন্দিরা রোডের টিএনটি মাঠ সংলগ্ন ফুটপাতের কয়েকটি দোকানে এবং খাবারের হোটেলে আকস্মিক ভাঙচুর চালায় ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিথুন ঢালী এবং তার ব্যক্তিগত সহযোগী টুটুল। প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের নাকের ডগায় মিথুন ঢালী দিনের আলোতে তান্ডব চালালেও তাকে বাধা দেয়ার কেউ ছিলো না। তার খুটির জোড় কোথায় জানতে চায় সাধারণ ব্যবসায়ীরা। সিসি টিভির ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায়। মিখুন ও তার সহযোগিরা লাঠি হাতে হোটেল থেকে ক্রেতাদের বের করে দিচ্ছে। তার পর দোকানের মালিক ও শ্রমিকদের বের করে দিয়ে দোকানের সাটার বন্ধ করে দেয়। আর বলে যায় চাঁদা না দেয়া অবদি বন্ধ থাকবে দোকান।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিথুন ঢালী প্রথমে তার ব্যক্তিগত গাড়িতে করে টিএন্ডটি মাঠ সংলগ্ন খাবার হোটেলের পিছনে মেইন রোডে পার্কিং করে এবং ফুটপাতে চায়ের দোকানদার, হকারদের কাছে চাঁদা দাবি করে,দোকানদাররা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দোকানদারদের মারধর করতে শুরু করে, কয়েকজনকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। চায়ের দোকান গুলো ভেঙে দেয় এবং ক্রমাগত লাথি দিয়ে তাদের দোকানের জিনিসপত্রগুলো রাস্তায় ফেলতে থাকে, হকারদের বুকে পা দিয়ে পাড়া দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, তারপর পার্শ্ববর্তী খাবার হোটেলর জানালার গ্লাস ভেঙ্গে আতঙ্কের সৃষ্টি করে, হোটেল স্টাফদের মারধর করে এবং তার সহযোগীকে সাথে নিয়ে হোটেল ভাঙচুর করে, হোটেলে খেতে বসা সাধারণ জনগণদের ভয় ভীতি দেখিয়ে হোটেল থেকে বের করে দেয়, হোটেলের দরজার শাটার বন্ধ করে দেয়।

পাশেই খামারবাড়ি খেজুর বাগান লেগুনা স্ট্যান্ড, তিনি লেগুনা ড্রাইভার-হেলপারদের কাছে চাঁদা দাবি করে, ড্রাইভার-হেলপাররা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, প্রথমে মিথুন ড্রাইভার হেলপারদের এবং পরবর্তীতে যাত্রীদের মারধর করে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয় এবং কয়েকটি গাড়ির লুকিং গ্লাস ভেঙ্গে দেয়।
সাধারণ পথচারীরা বিষয়টি জানতে চাইলে তাদেরও মারধর শুরু করে, তখন সাধারণ জনগণ, লেগুনার যাত্রী এবং হকাররা বিক্ষুব্ধ হয়ে তাকে ঘিরে ধরে এবং ঘরোয়া হোটেলের সামনে, ময়লার ডাস্টবিনের পাশের রাস্তায় গণধোলাই দেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফুটপাতের এক চা দোকানদার বলেন, আমরা বিগত ১৫-২০ বছর যাবত এখানে দোকানদারি করছি,মিথুন ঢালী প্রায়ই এসে আমাদের কাছে চাঁদা দাবি করতো, না দিলে দোকানগুলো ভেঙ্গে দিতো, আজকেও একইভাবে দোকানগুলো ভাঙা শুরু করলে জনগণের গণধোলাইয়ের শিকার হয়।

এই ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই তার ক্যাডার বাহিনীর আনুমানিক ১৫-২০ জন সদস্য ইন্দিরা রোডে লেগুনা স্ট্যান্ডে ব্যাপক ভাংচুর চালায় এবং পার্শ্ববর্তী বিকাশের দোকানে ভাঙচুর করে। আনুমানিক ৩৫ টি লেগুনায় ভাঙচুর চালায় এবং কয়েকজন ড্রাইভার-হেলপারদের মেরে হাত ভেঙে দেয়।
এক পর্যায়ে শেরে বাংলা নগর থানা পুলিশের গাড়ি ঘটনাস্থলে আসার পরেও পুলিশের সামনে তারা গাড়ি ভাঙচুর করতে থাকে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় সারাদিন মোটরসাইকেল নিয়ে ইন্দিরা রোড এবং রাজাবাজারের বিভিন্ন গলিতে শো-ডাউন করে মিথুন ঢালির ক্যাডাররা । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক লেগুনা মালিক বলেন, আমরা তাদের আতঙ্কে রাস্তায় গাড়ি বের করতে পারছিনা, রাস্তায় গাড়ি বের করলেই গাড়ি ভাঙছে এবং জানে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে, ড্রাইভার হেলপারদের মারধর করছে, তিনি আরো বলেন, আমরা গরীব মানুষ গাড়ি বন্ধ থাকলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে।
এ বিষয়ে ঢাকা ইন্দিরা পরিবহনের মালিক মোঃ দেলোয়ার হোসেন চুন্নুর সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। এই রোডে চলাচলকারী যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সন্ত্রাসী তান্ডবে লেগুন চলাচলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অফিস এবং স্কুলে যাতায়াত করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এবং যাতায়াত খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
বিষয়টি নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান খান ইরানের সাথে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি তার বক্তব্য।
শেরে বাংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আহাদ আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা এবং বিক্ষিপ্ত হাতাহাতির ঘটনা শুনেছি, কিন্তু কোনো পক্ষই এখনো আমাদের কাছে অভিযোগ নিয়ে আসে নাই। অভিযোগ নিয়ে আসলে আমরা আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
Posted ৪:০৬ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৯ জুলাই ২০২৪
banglapostbd.news | Rubel Mia
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
৭৮/৩ কাকরাইল, ভিআইপি রোড, ঢাকা-১০০০।